আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ চলমান লকডাউন শিথিল হলে আগস্ট মাসে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের বেজোড় সেমিস্টার ও পরবর্তী সময়ে জোড় সেমিস্টারের বাকি পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদের ডিন ও উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, চলমান লকডাউন না বাড়ানো হলে আগস্টের ২য় সপ্তাহ থেকে অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট কানেকশনে জটিলতা, ডিভাইস সংকট, আর্থিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধান করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অনলাইন পরীক্ষার উপযোগী করে তুলে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ডেমো পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানান উপ-উপাচার্য ও ডিনরা ।

এ ব্যাপারে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ডিনস কমিটির মিটিংয়ে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে যেহেতু করোনা মহামারির কঠিন পরিস্থিতি পার করছি তাই পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেবো। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আগস্ট থেকে বাকিগুলোর পরীক্ষাও শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো রুটিনও প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বেজোড় (স্নাতক প্রথম, তৃতীয়,পঞ্চম,সপ্তম ও স্নাতকোত্তর প্রথম) সেমিস্টারগুলোর আগে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরে জোড় (স্নাতক দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, অষ্টম ও স্নাতকোত্তর শেষ) সেমিস্টারগুলো নেওয়া হবে।

‘পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো আমলে নিচ্ছি। কার নেট সমস্যা, কার ডিভাইস নাই, কার টাকা লাগবে, কেউ অসুস্থ থাকলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখে বিবেচনায় এনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করে পরীক্ষা নেবো।’

‘এজন্য আমরা জুমে মিটিং করছি, ডেমো ক্লাস নিচ্ছি। শুধু তাই নয় পরীক্ষার ডেমো নেবো তারপরে মূল পরীক্ষায় যাবো’-যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নিয়ে পিছিয়ে থাকতে পারি না। যেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেকোনো পদ্ধতিতেই হোক না কেন পরীক্ষা নিচ্ছে। আমাদের অনেকগুলো বিষয় দেখতে হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (বিমক) অনুসরণ করি। সেখানের নিয়মনীতি ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় পরীক্ষা নিতেই হবে।

নাহলে আমরা পিছিয়ে পরব। বর্তমানে যেহেতু বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষাগুলো বন্ধ নেই তাই শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে তাদের ক্ষতি করে লাভ নাই। শিক্ষার্থীদের তো আন্ডারগ্রাজুয়েট শেষ করে জব মার্কেটে যেতে হবে। তাই যতদ্রুত সম্ভব সবকিছু বিবেচনায় এনে পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন বিভাগের বেজোড় সেমিস্টারগুলোর পরীক্ষা শুরু হবে। এটা হয়ে গেলে দেড় মাস পরে জোড় সেমিস্টারের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে। কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ বেজোড় সেমিস্টারগুলোর রুটিন ইতোমধ্যে দিয়ে দিয়েছে। তবে কিছু কিছু বিভাগ এখনও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেনি।

পরীক্ষা নেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের সুবিধা অনুযায়ী। শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে পরীক্ষা পিছিয়ে নতুন করে রুটিন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানালেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস ছামাদ। তিনি বলেন, যেসব বিভাগে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হচ্ছে না সেগুলোতে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আর অনেক বিভাগে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা আছে সেসব বিবেচনায় পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যেমন-ফলিত গণিত বিভাগে ৩১ জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও লকডাউনের কারণে পুনরায় রুটিন করে ১৬ আগস্ট থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

কম্পিউটার সাইন্সের পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া হয়েছে, বিজনেস ফ্যাকাল্টির অনেক পরীক্ষাই হয়ে যাচ্ছে। আর বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা আছে। এগুলো চাইলেও অনলাইনে নেওয়া সম্ভব না। টিকা কার্যক্রমের পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সেগুলো নিয়ে নেওয়া হবে।

তবে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষা নিয়ে কোনো ঝামেলা হলে প্রসাশন থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

তিনি বলেন, কোথাও কোনো অসুবিধা হলে আমরা সাহায্য করছি, যাতে অনলাইনে শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করতে পারে। বিভাগগুলো নিজ দায়িত্বে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যখনই সুযোগ তৈরি হবে তখনই পরীক্ষা নিয়ে নেবে।

তবে চলমান লকডাউনে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত কোনো ধরনের পরীক্ষা না নিতে বলা হয়েছে জানান প্রক্টর ড. অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী।

আগামী ৮ আগস্ট থেকে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও অ্যাডমিট কার্ড জটিলতায় কিছুটা শঙ্কার কথা জানালেন আইন অনুষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগামী ৮ আগস্ট থেকে বেজোড় সেমিস্টারগুলোর পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অ্যাডমিট কার্ড এখনও তৈরি হয়নি। এটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের করার কিছুই নাই। আগামী ৮ আগস্ট থেকে পরীক্ষা নিতে পারবো কি না এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত না। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছি।

অ্যাডমিট কার্ড জটিলতার বিষয়টি অনেকাংশে সমাধান হয়ে গেছে বলে জানান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট ক্লিয়ারেন্সের কারণে অনেকই অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে পারছে না। পরীক্ষার ফি অ্যাকাউন্ট সেকশনে সম্পূর্ণ না এলে অ্যাকাউন্ট সেকশন ক্লেয়ারেন্স করতে পারে না। আর করোনার কারণে অফিসে অনেকেই আসেন না, তাই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আজকে আমরা বিষয়টা মোটামুটি সমাধান করে দিয়েছি।

সূত্র-ঢাকা টাইমস

Check Also

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২শর্ত মেনে সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর অনুমতি

সরকার এবার ২টি শর্ত দিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দিয়েছেন। …

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

কলেজ নামের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শব্দের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউটগুলোর নামের সঙ্গে ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ শব্দের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে …

আপনার মতামত জানান