শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪জনকে চিরতরে বহিষ্কার

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় কুয়েট সিন্ডিকেট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৪জনকে চিরতরে বহিষ্কার, ৭জনকে দুই শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কারসহ মোট ৪৪ জনকে বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছেন।এছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আজকে ৫জানুয়ারি রোজ বুধবার কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া আজকে দুপুরেজানান, ৪জনকে চিরতরে কুয়েট থেকে বহিষ্কার, ৭জনকে দুই শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার ও আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, ১জনকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২২ জন শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়েছে,তবে তাদের বহিষ্কার আদেশ আপাতত স্থগিত থাকবে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে আবারও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো অভিযোগ উঠলে তখন থেকে তা কার্যকর হবে। এছাড়া ১০ জন ছাত্রকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

তাছাড়া ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্র সংগঠন মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র সংগঠনের সকল ব্যানার, পোস্টার ফেস্টুন অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।ডক্টর সেলিমের স্ত্রীর চাকরির আবেদনের বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে।দ্রুত তার (ডক্টর সেলিমের)পাওনা টাকা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর আগে ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে ড. সেলিমের ওপর ছাত্রদের চাপ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় পর্যবেক্ষণসহ ৯টি সুপারিশ করা হয়।

ওই কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে সেখানে ছাত্র রাজনীতি একেবারে বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে কিছুদিনের জন্য ক্যাম্পাসে ছাত্রদের রাজনীতি স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্তের সময় ৬৫ জন শিক্ষার্থী, ৪০ জন শিক্ষকসহ প্রায় ১৪০ জনের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ড. সেলিম মারা যাওয়ার দিনের ঘটনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে কমিটি।

উল্লেখ্য কুয়েট শিক্ষকদের অভিযোগ,হলের প্রভোস্ট ড. সেলিমকে তার মনোনীত ছাত্রকে লালন শাহ হলের ডাইনিং ম্যানেজার নিযুক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান। গত ৩০ নভেম্বর ২০২২ইং তারিখে সেজান ৪০/৪২ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে আবারও ড. সেলিমকে চাপ প্রয়োগ এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে বাসায় গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

Check Also

শিক্ষামন্ত্রী দিপু মণি

করোনার সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে …

জাহিদ মালিক

সব অফিস অর্ধেক উপস্থিতি নিয়ে চলবে,বাধ্যতামূলক ৫টি নির্দেশনা জারি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী দুই সপ্তাহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে …

আপনার মতামত জানান