ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭.৪% শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষায় আগ্রহী

করোনার প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র অবস্থান রয়েছে। ৫২.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে মত দিলেও ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী তাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৭.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংসদের সোশ্যাল সায়েন্স টিমের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে রোববারে ।

অনলাইনে এই জরিপ চালানো হয় চলতি বছরের ৩০ মে থেকে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৩,৭৩০ শিক্ষার্থী এতে  অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৫.৫ শতাংশ ছাত্র, ৪৩.৪ শতাংশ ছাত্রী এবং ১.১ শতাংশ ছাত্র না ছাত্রী, সেটি উল্লেখ করেননি। জরিপে অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ২৬.৯ ও কলা অনুষদের ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

জরিপে আরো উঠে এসেছে, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ৪৪.৫ শতাংশ গ্রাম, ১৫.৭ শতাংশ ছোট শহর, ১৯.৩ শতাংশ শহর এবং ২০.৩ শতাংশ মহানগর এলাকায় অবস্থান করছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী,৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনাগ্রহী  এবং বাকিরা সিদ্ধান্ত জানাননি। আর ৮৭.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। এ ছাড়া ওপেন বুক (২১.১%), এমসিকিউ (১৯.৭%), সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১৯.৪%), বড় প্রশ্নোত্তর (৫.৪%) পদ্ধতি এবং লাইভ ভিডিও ((৪.২%) পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অনলাইন পরীক্ষায় অনিচ্ছার কারণ ইন্টারনেটের দুর্বল নেটওয়ার্ক সংযোগ :চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে দিতে অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৭.৪ শতাংশ ভালো নেটওয়ার্কে যুক্ত নেই, ৩৮. ১ শতাংশ বিদ্যুতের সমস্যায় রয়েছে, বাড়িতে পরীক্ষা দেওয়ার পরিবেশ নেই ৪৫.৮ শতাংশের, প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই ২২.২ শতাংশের, ডিভাইস বা ডাটা কেনার সামর্থ্য নেই ১৬.৬ শতাংশের, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ৫৭.৪ শতাংশের, অনলাইন পরীক্ষার অভিজ্ঞতা নেই ৪০.৬ শতাংশের এবং প্রস্তুতি নেই ২৭.৪ শতাংশের।

অনলাইন ক্লাসে অসন্তুষ্ট ৪৬.৪% শিক্ষার্থীঃ

জরিপের ফল অনুযায়ী, অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে ২৩.১ শতাংশ শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট ও ২৩.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী খুব বেশি অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ২৩.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী মোটামুটি সন্তুষ্ট এবং মাত্র ২.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট।জরিপে আরো উঠে এসেছে, অনলাইন ৪৬.৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর ক্লাসের মাধ্যমে সিলেবাস শেষ হয়েছে এবং  ৫৩.৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সিলেবাস শেষ হয়নি।

অনলাইন পরীক্ষার দক্ষতা ২১% শিক্ষার্থীর

জরিপে আরও উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইনে পরীক্ষায় বসার পর্যাপ্ত দক্ষতা আছে ১২.৭ শতাংশের, ২৯.৮ শতাংশের মোটামুটি, ২৪ শতাংশের কিছুটা, ১২.৪ শতাংশ তাদের দক্ষতার ব্যাপারে সন্দিহান এবং ২১ শতাংশ শিক্ষার্থীর দক্ষতাই নেই।

এর আগে অনলাইনে অনুষ্ঠিত মিড-টার্ম বা সমমান পরীক্ষায় বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে ৬২.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সঠিক দিকনির্দেশনা পেয়েছেন, ২৩.৮ শতাংশ কোনোরকম দিকনির্দেশনা পাননি এবং বাকি ১৩.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।

এ জরিপ কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল করিম এবং কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন তাওহিদা জাহান । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংসদের সোশ্যাল সায়েন্স টিমের টিম ম্যানেজার মো. তানবীরুল ইসলাম, কো-অর্ডিনেটর সুমাইয়া ইমতিয়াজ, মো. আতিকুজ্জামান, জাওয়াদ সামস, রাগীব আনজুম, মো. ওমর ফারুক ও সুমাইয়া আহমেদ এটি পরিচালনা করেন ।  সংগঠনের নাসরিন জেবিন, সাইফুল্লাহ সাদেক, শাহরিন ফারাহ খান ও ইসতিয়াক উদ্দিন জরিপটি বিশ্নেষণ ও পুনর্বিন্যাসে সহযোগিতা করেছেন।

Check Also

অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া

কোন কাজ ছোট নয়,অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া তরুণীর ডোমের চাকরিতে আবেদন

অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া স্বর্ণালী সামন্ত নামে এক ভারতীয় তরুণী ডোমের চাকরির বিজ্ঞাপনে আবেদন করেছেন।ওই …

অনলাইন

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই হচ্ছে ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত ৭ কলেজের।  দীর্ঘদিন ধরে মহামারি …

আপনার মতামত জানান