প্রতারণার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উধাও

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু অভিভাবকদের  আধুনিক এ ব্যাংকিং সুবিধা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

প্রতারকচক্র এ সুযোগে অভিভাবকদের ধোঁকায় ফেলে কখনো নগদের এজেন্ট, আবার কখনো শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে গোপন পিন নম্বর। ফলে বৃত্তির টাকা সহজেই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র।

ভুয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা সেজে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রতারকরচক্র ফোন দিয়ে ওটিপি নম্বর নিয়ে অভিভাবকদের মোবাইলের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আজ রবিবার পর্যন্ত কমপক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে  টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়,এ উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির অর্ন্তভুক্ত হয়েছে।  মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতি ৩ মাস পর পর এই টাকা প্রদান করা হয়।

প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা  শিক্ষার্থী প্রতি ৭৫ টাকা করে মাসে পান এবং ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১৫০ টাকা পান।গত বুধবার থেকে আজকে রবিবার পর্যন্ত প্রায় অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর অভিভাকদের মোবাইলে এই টাকা পাঠানো হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিং নগদ টাকা পাঠানোর পরে কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের মেসেজ পাঠান। তারপর প্রত্যেক অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট চালু করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সেট করতে বলা হয়। অভিভাবকরা অ্যাকাউন্ট চালু হলে  টাকা তুলতে পারেন।

কিন্তু টাকা মোবাইলে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রতারকচক্র উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে কখনো নগদের এজেন্ট, কখনো শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধানশিক্ষক পরিচয় দিয়ে উপবৃত্তির টাকা কম দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বেশি টাকা পাঠানো হবে বলে এ সময় অভিভাবকদের জানিয়ে নগদের OTP(ওয়ান টাইম   পাসওয়ার্ড) চান প্রতারকচক্র ।অভিভাবকরা এসময় OTP (ওয়ান টাইম   পাসওয়ার্ড) প্রতারকচক্রদের দিয়ে দিলে প্রতারকচক্ররা টাকা হাতিয়ে নেন।

ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক  লাল মিয়া,জাহিদুল ইসলাম, মহল আলী ও বাদশা মিয়াসহ অন্তত ১৫ অভিভাবক জানান, শিক্ষকের কথা বলে ফোন করে মেসেজে আসা নম্বরটা চাইলে দিয়ে দেই।

পরে মোবাইল নিয়ে দোকানে টাকা তুলতে গেলে দেখি টাকা নাই।

কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ বিষয়ে বলছেন, প্রতারণার বিষয়টি আমরা অভিভাবকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা তেমন সচেতন না।

প্রতারকরা অভিভাবকদের ফোন করে গোপন পিন নম্বর জানতে চেয়েছেন,আর তারাও সেটা বলে দিয়েছেন। আর প্রতারকচক্র এভাবেই তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) জনাব ফেরদৌসি বেগম বলেন,  প্রতারণার বিষয়টি অভিভাবক ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকরা আমাকে জানিয়েছেন।

আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে এই বিষয়টি জানিয়েছি। অভিভাবকদের প্রতারকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন করতে ইতিমধ্যে মধ্যে আমরা প্রচারকাজ শুরু করেছি।

Check Also

প্রাথমিক শিক্ষার্থী

৩য়-৪র্থ কিস্তির উপবৃত্তি ও কীট এলাউন্স প্রদানের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ৩য়-৪র্থ কিস্তির (জানুয়ারী/২১-জুন২০২১) উপবৃত্তি ও কীট এলাউন্স প্রদানের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক …

জাকির হোসেন

প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হবে

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৈষম্য দূর করে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন …

আপনার মতামত জানান