মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে ও কর্মরতদের ধরে রাখতে ১০ম গ্রেডের বিকল্প নেই

শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষকরা।ভবনের ভিত্তি মজবুত না হলে যেমন কোন ভবনই স্থায়ী হবেনা তেমনি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জিত না হলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাও কখনো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবেনা।প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশা একটি চ্যালেন্জিং পেশা।

কোমলমতী শিশুদের মায়ের কোল থেকে নিয়ে এসে শিক্ষার লাইনে দাড় করানো যে কতটা কষ্টকর তা সকলে জানে।শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর জন্য বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ দেশসমূহ প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চ বেতন ও পদমর্যাদা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করছেন।

কিন্তু উল্টো পথে চলতেছে কেবল আমাদের দেশ। আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের নায্য বেতন-পদমর্যাদা দিতে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অক্ষমতার কথা বারবার বলা হচ্ছে,প্রাথমিক শিক্ষকদের সংখ্যা বেশী হওয়ার কথা বলা হয়।আচ্ছা,পৃথিবীর মধ্যে একটা দেশ দেখানতো যেখানে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংখ্যা সরকারের অন্য বিভাগের কর্মীদের চেয়ে কম?

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত করলে বরং আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষকের সংখ্যা খুবই কম।মালয়েশিয়ায় যেখানে ৬০০জন শিক্ষার্থীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৯৫ জন,সেখানে আমাদের দেশে থাকে সর্বোচ্চ ৭-৮ জন।মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রত্যেক প্রাথমিক শিক্ষকের একটি করে ব্যক্তিগত গাড়ী ও আলাদা আলাদা নিজস্ব রুম রয়েছে।

মালয়েশিয়া ও আমাদের দেশ প্রায় একই সময়ে স্বাধীন হয়েছিল,কিন্তু শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কারণে আজ মালয়েশিয়ার অবস্থান কোথায় অন্যদিকে আমাদের দেশের অবস্থান কোথায়?

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের সবচেয়ে কম বেতন-পদমর্যাদা দেয়া হয় অথচ অর্থনীতিতে আমরা অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে।এমনকি সরকারের দুর্নীতির কারণে আর্থিকভাবে জর্জরিত আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকায় প্রাথমিক শিক্ষকরা ১ম শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদা পান কিন্তু আমাদের দেশে স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা এখনো পদমর্যাদায় ৩য় শ্রেণির কর্মচারী।

একজন শিক্ষকের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণির কর্মচারী এটা একটা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক।যখনই প্রাথমিক শিক্ষকরা ও সুশীল সমাজ প্রাথমিক শিক্ষকদের নায্য বেতন- পদমর্যাদা দেয়ার কথা বলতেছেন তখনই দেশের আর্থিক অক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে।কিন্তু একই অর্থনীতি নিয়ে আমাদের দেশের আমলারা পুকুর খনন শিখতে,খিচুড়ি রান্না শিখতে,কাপড়ের রং দেখতে,মাছ দেখতে,আলু দেখতে বিদেশে গিয়ে উজাড়ভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় করতেছেন।

তখন কিন্তু রাষ্ট্রের আর্থিক অক্ষমতার কোন প্রশ্ন আসেতেছেনা।শুধু প্রাথমিক শিক্ষকদের দেবার বেলায় আর্থিক অক্ষমতা।আপনারা জানেন আফ্রিকান দেশগুলো অধিকাংশই গরীব,তাদের জনগনের অধিকাংশই ঠিকমত খেতে পায়না।অথচ আপনারা জানলে অবাক হবেন যে আফ্রিকান এই গরীব দেশগুলোতে শিক্ষকদের বেতন পদমর্যাদা ডাক্তারদের তুলনায় অনেক বেশী।

নিচে এ বিষয়ে আপনাদের জন্য একটা লিংক দিলাম,নিজেই দেখে নিতে পারেন।এই লিংকে ক্লিক করে

এসব দেখার পরেও কি আমাদের দেশের নীতিনির্ধারক মহোদয়গণ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দিয়ে মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে ও কর্মরত মেধাবীদের ধরে রাখতে উদ্যোগ নিবেন না?

লেখকঃ মামুন,শিক্ষক ও ব্লগার

Check Also

কামরুল হাসান মামুন

এমনি মহান পেশা যেখানে প্রাথমিকের শিক্ষকরা রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী

“যথেষ্ট বেতন পান না প্রাথমিকের শিক্ষক” ডেইলি ষ্টার বাংলা এইটা কি কোন নতুন কথা? শিক্ষকের …

টাকা দিয়েই সন্তান মানুষ করার অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নাম লিখিয়েছেন?

নামী স্কুলে পড়ছে আপনার সন্তান?সন্তানের জন্য কতোই না চিন্তা।মাস শেষে গুণছেন স্কুলের বেতন।হোম টিউটরের বেতন, …

আপনার মতামত জানান