১০ম গ্রেডে বেতন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার

একটি জাতিকে সুশিক্ষিত হিসেবে গড়তে হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ জাতীয়করণের নীতি ঘোষণা করেন।

১৯৭২ সালের সংবিধানে বর্ণিত গণমুখী, সর্বজনীন, বৈষম্যহীন, একই ধরনের অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা সব শিশুর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে বলেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এর দরকার বেশি বলে উল্লেখ করেন।

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, সঠিক শিক্ষা ছাড়া দেশ গঠন কখনোই সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর ছিল শিক্ষা আর শিক্ষকদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন নাজুক, ঠিক সে অবস্থায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, জাতিকে সুগঠিত করতে হলে প্রথম দরকার সুশিক্ষা। এমনকি শিক্ষাব্যবস্থায় যেন কোনো রকমের বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও ছিল তাঁর তীক্ষ্ণ নজর। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেল, সেই বঙ্গবন্ধুর দলও প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতায় কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় রেখে দেওয়া হয়েছে। চরম একটা গ্রেড-বৈষম্যের শিকার হয়ে আছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড নিছক কোনো দাবি নয়, এটা ন্যায্য অধিকার। কেন ন্যায্য অধিকার, তার সামান্য আলোকপাত করছি মাত্র। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগের জন্য যোগ্যতা, স্নাতক সমমান (২য় বিভাগ) বেতন গ্রেড ১৩তম।

পাশাপাশি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। পুলিশের উপপরিদর্শকের নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। হাসপাতালের নার্সদের নিয়োগের যোগ্যতা বিএসসি ইন না‌র্সিং, বেতন গ্রেড ১০ম। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিয়োগের যোগ্যতা ৪ বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা, বেতন গ্রেড ১০ম। ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ১০ম।

এ ছাড়া ‌পিএস‌সি কর্তৃক সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক প‌দে নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতকসহ (দ্বিতীয় শ্রেণি) দেড় বছরের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন (ডি‌পিএড), বেতন গ্রেড ১০ম।

এ অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্নাতক যোগ্যতায় সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড কোনো দাবি নয়, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডি‌জি ও সচিবের প্রতি নিবেদন, অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের স্নাতক ডিগ্রিধারীদের কততম গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যালোচনা ক‌রে ন্যায্যতার ভি‌ত্তি‌তে ‌সহকারী শিক্ষক‌দের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা এখন অত্যাবশ্যক।

সূত্রঃদৈনিক প্রথম আলো

লেখকঃ মো. জামিল বাসার
সহকারী শিক্ষক, বওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

Check Also

সরকারি দপ্তরের পিয়ন-দারোয়ানের চেয়ে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন কম

বেসরকারি খাতের ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন হবে ৩৯ হাজার টাকা। আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের (নিরাপত্তা …

কামরুজ্জান মামুন

শিক্ষকদের এমন বেতন দিতে হবে যাতে কাউকে প্রাইভেট পড়াতে না হয়

শিক্ষকদের এমন বেতন দিতে হবে যাতে কাউকে প্রাইভেট পড়াতে না হয়, পার্ট-টাইম পড়াতে না হয়, …

আপনার মতামত জানান